আমাকে বাদ দিয়ে ঢাকাই ছবি সম্ভব নয়

ভিডিওটি দেখেছেন কি?

শিল্পী সমিতির সভাপাতি পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কোন কোন দিক দিয়ে নিজেকে যোগ্য মনে করছেন?

১৫ বছর ধরে সমিতির সঙ্গে আছি।

সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পর পর দুই বছর ইসি কমিটিতে ছিলাম। সুচরিতা ম্যাডাম, প্রবীর মিত্র সাহেব, শর্মিলী আহমেদের মতো গুণী মানুষদের হারিয়ে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছিলাম। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছি। শিল্পীদের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। দুঃখ-কষ্টে আমাকে সব সময় পাশে পেয়েছে। কারো আমার প্রতি অভিযোগ নেই, এই বিশ্বাস থেকেই নিজেকে যোগ্য মনে করেছি।রাজ্জাক, সোহেল রানা, ফারুকসহ সিনিয়র প্রায় সব শিল্পীর সঙ্গে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করছেন, এটা কি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ?

একদিক থেকে নির্বাচনী প্রচারণা বলা যেতে পারে। তবে সিনিয়রদের কাছে আমি যাচ্ছি দোয়া চাইতে। এটা আমার কর্তব্য বলে মনে করছি। রাজ্জাক, সোহেল রানা, ফারুক—তাঁরা জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁদের হাত ধরেই শিল্পী সমিতির যাত্রা। নির্বাচনের আগে তাঁদের কাছ থেকে দোয়া নেওয়াটা প্রয়োজন।

তাঁরা কি আপনাকে সমর্থন করছেন?

অবশ্যই করছেন। তাঁরা আমার প্যানেলের সঙ্গে নীতিগতভাবে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। তাঁদের সঙ্গে পেয়েছি, আমি কৃতজ্ঞ। দৃঢ় বিশ্বাস, জয় আসবেই।

আপনার দীর্ঘদিনের বন্ধু ওমর সানী। তিনিও একই পদে লড়ছেন।

সানীর সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক। সে নির্বাচন করবে এটা জানতাম না। ওর জন্য শুভ কামনা। আরেকটু পরিষ্কার করা দরকার, শিল্পী সমিতি একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সংগঠন। এখানে পাস করলে যে টাকা-পয়সা পাওয়া যাবে তা নয় বরং খরচ আরো বাড়ে। শিল্পীরা তাঁকেই বেছে নেবেন যাঁর হাতে কাজ আছে। এখানকার ভোটাররা বেকারদের পছন্দ করেন না!

শোনা যাচ্ছে আপনার সঙ্গে শাকিব খানের ‘ঠাণ্ডা যুদ্ধ’ চলছে?

তাই নাকি! সম্পর্ক খারাপ হবে কেন? আমার অনেক পরে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছে শাকিব। সে আমার ছোট ভাই। তার সঙ্গে রাগারাগির কিছু নেই।

বেশ কয়েকটি ছবি থেকে আপনার বাদ পড়ার নেপথ্যে নাকি শাকিব খান?

দেখুন, পছন্দ না হলে আমিই ছবি ছেড়ে দিই। শাকিবেরও কয়েকটি ছবি ফিরিয়ে দিয়েছি। আর একটা বিষয় সবার জানা উচিত। আমি কিন্তু জসিম, ইলিয়াস কাঞ্চন, রুবেল, সালমান শাহ, ওমর সানী, মান্না, রিয়াজ, ফেরদৌসের মতো নায়কের যুগ পার করেছি। এখনো আমার জায়গাটা আছে। এটাও জেনে রাখা ভালো শাকিবের পর বাপ্পী, সাইমন, শুভদের সঙ্গে তো কাজ করছিই, সামনে আরো যারা আসবে তাদের সঙ্গেও মিশাকে দেখবে দর্শক। আমাকে বাদ দিয়ে ঢাকাই ছবি কল্পনা করা সম্ভব নয়।

নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করেছেন?

কাজ চলছে। এ মাসের শেষের দিকে প্রকাশ করব।

অভিষেক ছবি ‘চেতনা’য় ছিলেন নায়ক, পরে হলেন খলনায়ক। ৩০ বছর পর আবারও নায়ক হচ্ছেন।

এত দিন পর নায়ক হচ্ছি, ভেতরে ভেতরে খুশি তো আছেই। এখন চরিত্রটি নিয়ে ভাবছি। হুট করে পজিটিভ চরিত্র, দর্শক কিভাবে নেবে! তবে পরিচালক জি সরকারের ওপর আস্থা আছে।

বলিউডের প্রদীপ রানাওয়াত, আশীষ বিদ্যার্থী, টালিগঞ্জের রজতাভ দত্ত—যৌথ প্রযোজনার ছবির মাধ্যমে জনপ্রিয় এই খলনায়কদের বাংলাদেশে অভিষেক হয়ে গেল। একটু কি চিন্তিত আপনি?

প্রদীপ আর আশীষ তো মেয়াদোত্তীর্ণ অভিনেতা। বলিউডের নতুন কোন ছবি আছে তাঁদের হাতে! আর রজতাভ তো কমেডিয়ান। খলনায়কের চেহারায় দাম্ভিকতা, ক্ষিপ্রতা থাকতে হয়। এর কোনোটিই কি আছে তাঁর মধ্যে? খলনায়ক বললে রাজীব ভাইয়ের কথা মনে হয়, আমজাদ খানের কথা মনে হয়। আমি তাঁদের দলেরই একজন। আমার জায়গা এত সহজে নড়বড়ে হবে না।

Loading...
Loading...